ORISSA
উড়িশ্যার দর্শনিয় স্হানগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল- পুরী, ভূবনেশ্বর, কটক, কোনারক, চিলকা হ্রদ, গোপালপুর, চাঁদিপুর, ললিতগিরি, ধবলেশ্বর ইত্যাদি. উড়িশ্যায় যেমন আপনি পাবেন সমুদ্র, তেমন আছে মন্দীর, আবার আছে পর্বত অরণ্য. উড়িশ্যার রাজধানী হল ভূবনেশ্বর. এখানকার প্রধান ভাষা- ওড়িয়া কিন্তু এখানে অন্য ভাষাও চলে যেমন- হিন্দী, বাংলা এবং ইংরাজী. উড়িশ্যয় গিয়ে দেখতে পারেন গোপালপুর, তপ্তপানী, চিল্কা, পুরী, কোনারক, ভূবনেশ্বর, কটক. যাজপুর, চাঁদিপুর, সিমিলিপাল, কেওনঝড়. আর রথের সময় পুরী গিয়ে দেখতে পাবেন জগন্নাথদেবেব ঐত্যিহাসিক রথযাত্রা.
পুরী-
পুরীর সমুদ্র সৌকত এবং পুরীর জগন্নাথের মন্দীরের টানে মানুষ ছুটে আসেন এখানে. জগন্নাথ মন্দীরে জগন্নাথ ছাড়াও রয়েছে বলরাম এবং সুভদ্রা. মূল মন্দীরের রত্নবেদীতে আছেন ৭টি মূর্তী. বলরাম, জগন্নাথ, সুভদ্রা, এদের পাশে আছে সূদর্শন চক্র. এছাড়া আছে সোনারা লক্ষী, রুপোর সরস্বতী. মন্দীরের আনন্দবাজারে মহাপ্রসাদ পাওয়া যায়. পুরীর জগন্নাথ মন্দীরে আছে বিশ্বের বৃহত্তম রান্নাঘরটি. এখানে ৪০০র বেশী রাধুনী আছে. ২০০টি উনুনে প্রায় ১০০ ধরনের ভোগ রান্না হয়. মন্দীর টি খোলা থাকে সকাল ৫টা থেকে রাত্রী ১১টা পর্যন্ত. পুরীর স্বর্গদ্বারের টানে পূর্ণার্থীরা এখানে বারে বারে ছুটে এসেছেন. পুরির এস.টি.ডি কোড- ০৬৭৫২. পুরী থেকে কনডাকটেড ট্যুরে বেরিয়ে আসুন চন্দ্রভাগা সাগরবেলা, কোনারকা, ধৌলী, খন্ডগীরি, উদয়গিরি, নন্দনকানন, ভূবনেশ্বর, চিল্কা.

পুরীতে এক্সিস ব্যাঙ্কের এটি.এম- (১) ত্রিমুর্তি হাইটস, গ্রান্ড রোড (২) প্লট নং-৩৪২৭, রথ রোড, লিঙ্গরাজ মন্দীরের কাছে. (৩) পুরি হোটেল, সিবিচ, পোষ্ট বক্স নং-১ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়ার এটিএম- (১) সুর্য কমপ্লেক্স, গ্রান্ড রোড, পুরী. (২) ভি.আই.পি রোড, পুরি (৩) গ্রান্ড মোটর স্টেষন, হসপিটাল স্কোয়ার, পুরী (৪) স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া- পুরি, ক্যাম্পাস, হরিহর চৌক.
পুরিতে কিছু প্রয়োজনীয় ফোন নং- এম্বলেন্স পরিষেবা- ১০২, টাউন পুলিস স্টেষন- ২২২০৩৯, ব্লাড ব্যাঙ্ক- ২২৪০৯৭. ট্রেনইড গাইড- বিভুদত্ত মিশ্র (০৯৪৩৭০৯১৪৯৭), জিতেন্দ্র মহাপাত্র (০৯৪৩৯০৫০০৩৯), রাজিব ভাদুরী (২২১২৫৮) ইত্যাদি. ট্যুরিজম দপ্তরের ফোন নং- ২৪৩২১৭৭

শ্রী জগন্নাথ এক্সপ্রেস (৮৪০৯ নং) হাওড়ায় ছাড়বে- প্রতিদিন সন্ধ্যা ৭টায়, খড়গপুর- রাত্রি ৮টা ৪৫মিনিট, ভুবনেশ্বর পৌছাবে- রাত্রি ২টো ৪০মিনিটে এবং পুরী পৌছাবে পরদিন ভোর ৪টে ৩০মিনিটে. মোট দুরত্ব- ৫০২কিলোমিটার. স্লিপার ক্লাসে ভাড়া- ২২৪টাকা (১লা নভেম্বর, ২০০৯ অনুযায়ী), জেনারেল ক্লাসের ভাড়া- ১০৯টাকা. ফেরার জন্য পুরীতে ছাড়বে প্রতিদিন রাত্রী ১০টা ৫০এ এবং খড়গপুর পৌছাবে-ভোর ৫টা ৫৫মিনিটে এবং হাওড়া পৌছাবে-সকাল ৮টা ১০মিনিটে.
হাওড়া-পুরী এক্সপ্রেস-(২৮৩৭) হাওড়ায় ছাড়ে প্রতিদিন রাত্রি ১০টা৩৫ মিনিটে এবং খড়গপুর রাত্রি ১২টা ২০মিনিটে, ভুবনেশ্বর সকাল ৫টা ২৫মিনিটে, এবং পুরী পৌছাবে পরদিন সকাল ৭টা ২০মিনিট নাগাদ. ফেরার জন্য পুরীতে ছাড়বে প্রতিদিন রাত্রী ৮টা ০৫এ এবং খড়গপুর পৌছাবে-ভোর ২টো ৪০মিনিটে এবং হাওড়া পৌছাবে-সকাল ৪টে ৫০মিনিটে. এর স্লিপার ক্লাসে ভাড়া- ২৪৪টাকা.
এছাড়া খড়গপুর হয়ে অনেকগুলি ট্রেন পুরী যাচ্ছে-
পুরুষত্তোম এক্সপ্রেস (২৮০২) এটি পুরুলিয়া জং এ ছাড়বে-প্রতিদিন সন্ধ্যা ৬টা ২৫মিনিটে, খড়গপুর স্টেষন থেকে ছাড়বে- রাত্রি ১০টা ০৫মিনিটে এবং পুরি পৌছাবে- পরদিন সকাল ৫টা ২০মিনিটে. ফেরার জন্য পুরী থেকে ছাড়বে- প্রতিদিন রাত্রি ৯টা ৪৫মিনিটে এবং খড়গপুর পৌছাবে পরদিন ভোর ৪টে ১৫মিনিটে এবং পুরুলিয়া জং এ পৌছাবে- সকাল ৮টা ২০মিনিট নাগাদ.
কলিঙ্গ-উত্কল এক্সপ্রেস (৮৪৭৮) এটি খড়গপুর স্টেষন থেকে ছাড়বে প্রতিদিন রাত্রি ১০টা ৫০মিনিটে এবং পুরি পৌছাবে- পরদিন সকাল ৬টা ১৫মিনিটে. ফেরার জন্য পুরী থেকে ছাড়বে- প্রতিদিন রাত্রি ৯টা ১৫মিনিটে এবং খড়গপুর পৌছাবে পরদিন ভোর ৩টে ৪০মিনিটে.
বৈদ্যনাথ ধাম এক্সপ্রেস (৮৪৫০) - এটি চিত্তরঞ্জন স্টেষন থেকে ছাড়ার সময় প্রতি বুধবার দুপুর ২টো ২০মিনিট, আসানসোল স্টেষন থেকে ছাড়ার সময় -দুপুর ৩টের সময়, বার্ণপুর থেকে ছাড়ার সময়- দুপুর ৩টে ৩১মিনিট, আদ্রা থেকে ছাড়বে বৈকাল ৪টে ৩০মিনিট, বাকুড়া থেকে ছাড়বে- বৈকাল ৫টা ২৩মিনিটে, বিষ্ণুপুর থেকে ছাড়বে- ৫টা ৪৭ মিনিট, মেদিনিপুর থেকে ছাড়বে সন্ধ্যা ৬টা ৫৫মিনিটে, খড়গপুর থেকে ছাড়বে- সন্ধ্যা ৭টা ৪০মিনিটে.
হাওড়া-পুরি সুপারফাস্ট স্পেশাল (০৮৬৪) হাওড়ায় ছাড়ার সময়-প্রতি মঙ্গলবার ৯টা ১৫মিনিটে, এবং খড়গপুরের ছাড়ার সময়- রাত্রি ১১টা ১০মিনিট, পুরি পৌছাবে- পরদিন সকাল ৬টা ৪৫মিনিটে. ভাড়া- স্লিপার ক্লাসে ভাড়া- ২৪৪টাকা (২৪শে আগষ্ট, ২০০৯ অনুযায়ী), এসির ভাড়া- ৬৩১টাকা এবং ৮৫২টাকা, জেনারেল ক্লাসের ভাড়া- ১০৯টাকা. ফেরার জন্য ৮৬৩নং ট্রেন. পুরিতে ছাড়ার সময়- প্রতি সোমবার রাত্রি ১১টা ৩৫মিনিটে এবং হাওড়া পৌছানোর সময়- পরদিন সকাল ৯টায়.
হাওড়া-পুরী গরিবরথ এক্সপ্রেস (২৮৮১) ট্রেনটির হাওড়ায় ছাড়ার সময়- প্রতি মঙ্গল এবং বৃহস্পতিবার রাত্রি ৮টা ৫৫মিনিটে, খড়গপুরে ছাড়ার সময় রাত্রি ১০টা ৪০মিনিট. পুরী পৌছানোর সময়- পরদিন ভোর ৫টা ৫০মিনিটে. ফিরে আসার জন্য ট্রেন নং- ২৮৮২. পুরিতে ছাড়ার সময়- প্রতি সোম এবং বুধবার রাত্রি ১০টা এবং খড়গপুর পৌছাবে- পরদিন ভোর ৪টে ৩০মিনিটে, হাওড়ায় পৌছানোর সময়- সকাল ৭টা ০৫ মিনিটে.
এছাড়াও হাওড়া থেকে ভুবনেশ্বর যাচ্ছে কয়েকটি ট্রেন. সেক্ষেত্রে ভুবনেশ্বর পৌছে সেখান থেকে পুরি সহজেই পৌছানো যায়.
হাওড়া-ভুবনেশ্বর জনশতাব্দি এক্সপ্রেস (২০৭৩) হাওড়ায় ছাড়ার সময়- রবিবার বাদে প্রতিদিন দুপুর ১টা ৪০ মিনিটে. (খড়গপুর- দুপুর ৩টে ২০মিনিট) ভুবনেশ্বর পৌছানো যায়- ঐ দিন রাত্রি ৮টা ২০ মিনিটে.
ভাগলপুর যশবন্তপুর এক্সপ্রেস (২২৫৪) হাওড়ায় ছাড়ে প্রতি বুধবার- রাত্রি ১১টা ০৫ মিনিটে এবং খড়গপুরে পৌছায়- রাত্রি ১টা ১০মিনিটে. ভুবনেশ্বর পৌছানোর সময়- পরদিন ভোর ৬টা.
কলকাতার শহীদ মিনার থেকে পুরীর বাস পাওয়া যায়
পুরিতে থাকার জন্য হোটেল-
হোটেল সোনালি (স্বর্গদ্বার, সিবিচ- ২২৩৫৪৫, ২২৩২৯৫ ), গ্র্যান্ড হোটেল- সেন্ট্রাল পুরি (২২৩০৫৯৯), পুরি পান্হনিবাস (২২২৭৪০), সোনারতরী (২২১৭২৬), হোটেল সান এন্ড স্যান্ড (২২২৩১০৭), সাগরিকা (২২৪০৬৩), হোটেল নিলাচল অশোক (২২২৩৬৫১), মাসির হোটেল (০৯৮৬১১৭৭৭৭৪), বঙ্গলক্ষী (২৩০৭১১), হোটেল বিজয় ইন্টারন্যাশানাল (২২২৭০২), হোটেল সিভিউ (২২৩৪১৭), আঞ্জনা হোটেল (২২০৩৯৮), হোটেল সাগরকন্যা (), হোটেল হলিডে রিসোর্ট (২২২৪৪০), সাউথ ইস্টান রেলওয়ে (২২২০৬৩), নিলাচল লজ-ভজন কুটির (২২৩৩৮৭), ডালমিয়া অথিতি বিহার(২২৫৫৫৭) , পুরি হোটেল (২২২১১৪), হোটেল নিউ সি হক (২৩১৪০০), পার্ক হোটেল (২২৩৩৬৬), প্যারাডাইস হোটেল (২২২২৭৮), সমুদ্র হোটেল (২২২৭০৫), হোটেল নিলাদ্রী (২৩০৭৯৯), ডলফিন হোটেল (২৩১৪৫৩), কোনারক হোটেল (২৩১৪৮০), শকুন্তলা হোটেল (২২১৩৪৭), হোটেল ড্রিমল্যান্ড (২৩০২৫২), ক্যামেলিয়া হোটেল (২৩১৪২৪), হোটেল সি গুল (২২৩৬১৮), হোটেল রিচি প্যালেস (২২০৬২৭) ইত্যাদি.
কোনারক-

কোনারকের সূর্য মন্দীরর টানে প্রতিদিন হাজার হাজার পর্যটক এখানে এসে ভিড় করেন. কোনারকের সূর্য মন্দীর টি সূর্যের ৭টি ঘোড়ায় টানা রথের আদলে তৈরী করা হয়েছে. এই সাতটি ঘোড়া সপ্তাহের সাতটি দিনের প্রতিক হিসাবে চিহ্নীত. এই রথের ২৪টি চাকা দিনের ২৪ ঘন্টার প্রতিক হিসাবে চিহ্নীত. মন্দীরের গর্ভগৃহে রাখা দেবতার মুখে এসে পড়ে সুর্যের প্রথম কিরন. এই মন্দীরে আছে অনেকগুলি ছোট ছোট মন্দীর. মন্দীরের কিছুটা দূরে প্রত্নতাত্বিক মিউজিয়াম আছে(শুক্রবার বন্ধ থাকে). কোনারকে ১লা ডিসেম্বর থেকে ৫ই ডিসেম্বর পর্যন্ত কোনারক নৃত্য উত্সব হয়. পুরী এবং ভূবনেশ্বর থেকে বাস যাচ্ছে কোনারক. পুরী থেকে কোনারক বাসে দেখে আসাটাই ভালো. চাইলে এখানে রাত্রে থাকতেও পারেন. ভূবনেশ্বর থেকে ৬৪কিলোমিটার দূরে, পুরী থেকে প্রায় ৩৬কিলোমিটার. পুরী থেকে প্রচুর বাস যাচ্ছে মেরিন ড্রাইভ ধরে কোনারক (প্রায় ১ঘন্টা ১৫মিনিট মতো লাগছে). এছাড়া অটো, ট্রেকার ইত্যাদি করে আপনি যেতে পারেন কোনারক.
কোনারকের এস.টি.ডি নং- ০৬৭৫৮
এখানে থাকার জন্য কিছু হোটেল-
উড়িশ্যা পর্যটন দপ্তরের লজ- পান্থনিবাস (২৩৬৮৩১), যাত্রিনিবাস (২৩৬৮২০), লাবন্য লজ (২৩৬৪৩০), কোনারক লজ (২৩৬৫০২), রয়েল লজ (২৩৬৮১৮), বিজয় লজ (২৩৬৭৪৮), ট্রাভেলার্স লজ (২৩৬৮২০), সানভিলা (২৩৬৮২১), শান্তি হোটেল (২৩৬৮১৮) ইত্যাদি.